সোমবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৮

লেনদেন কাকে বলে ও লেনদেনের বৈশিষ্ঠ্য

মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই দৈনন্দিন জীবনে হিসাব ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছে। আদিকালে প্রত্যেকে তাঁর প্রাত্যাহিক জীবনের প্রয়োজনগুলো মেটানোর জন্য নিজেদের মধ্যে পণ্য বিনিময় করত। যে ঘটনাগুলো কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করে কেবল ঐ ঘটনাগুলো থেকেই লেনদেনের জন্ম হয় । সুতরাং দেখা যাচ্ছে সকল ঘটনাই লেনদেন হবে না।

তাই বলা যায়, সকল লেনদেনই ঘটনা কিন্তু সকল ঘটনা লেনদেন নয়।

ব্যবসায়ের প্রকৃত আর্থিক চিত্র পাওয়ার জন্য শুধু অর্থ সর্ম্পকিত ঘটনাগুলোই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

লেনদেন-কাকে-বলে

লেনদেনের ধারণা

ব্যবসায় জগতে বিভিন্ন ঘটনার উদ্ভব হয়। কিন্তু সমস্ত ঘটনাকে হিসাবের বহিতে লিপিবদ্ধ করা হয় না কারণ সকল ঘটনা লেনদেন নয়। শুধুমাত্র অর্থের অংকে পরিমাপযোগ্য ঘটনা যেটি ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করে সেই ঘটনাকেই লেনদেন হিসেবে হিসাবের বহিতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

সেবা আদান প্রদানের মাধ্যমেও লেনদেনের উদ্ভব হতে পারে। যেমন মিঃ আরমানকে অফিসের দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে ১৫,০০০ টাকা বেতন দেয়া  অথবা ঘর ভাড়া বাবদ ২,০০০ টাকা পাওয়া গেল, এগুলোও লেনদেন।

আবার অদৃশ্য ভাবে কোন আর্থিক ঘটনা ঘটে থাকলে তাহাও লেনদেন হতে পারে। যেমন: সম্পদ ব্যবহারের ফলে যে মূল্য হ্রাস হয় এটি ও একটি লেনদেন।

লেনদেনের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্য

আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি প্রত্যেকটি লেনদেনই ঘটনা কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনা লেনদেন নয়। লেনদেনের ধারণাটিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা নিচের প্রকৃতি বা বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ্য করি।

আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বা হিসাব সমীকরণে পরিবর্তন

লেনদেনের ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসায়ের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন বা ব্যবসায়ের সম্পদ দায় ও মালিকানার পরিবর্তন হবে।

হিসাব সমীকরণ

হিসাবসমীকরণ হলো কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোন প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের পরিমান ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা স্বত্ব ও দায়ের সমান হবে। যে সমীকরণের মাধ্যমে এই সমতা প্রমাণ করা হয় তাকেই হিসাব সমীকরণ বলা হয়।

হিসাব সমীকরণ : সম্পদ = দায় + মালিকানা সত্ত্ব

হিসাবশাস্ত্রবিদগণ হিসাব সমীকরণ (সম্পদ = দায় + মালিকানা সত্ত্ব) এর উপাদানগুলোর পরিবর্তনকারী ঘটনাকে লেনদেন বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ সম্পদ, দায় এবং মালিকানা সত্তে পরিবর্তন আনয়নকারী ঘটনা লেনদেন হিসাবে গণ্য হয়।

অর্থের অংকে পরিমাপযোগ্য

প্রতিটি লেনদেন অবশ্যই অর্থের পরিমাপযোগ্য হতে হবে। যে ঘটনা অর্থের অংকে বা মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায়না, তা লেনদেন হবে না।

যেমনঃ অফিসে দুর্ঘটনা জনিত কারণে ১জন কর্মচারীর হাত কাটা যায়।

এটি একটি ক্ষতি কিন্তু এই ক্ষতিটি টাকার অংকে পরিমাপ করা যাবেনা। তাই এটি লেনদেন নয়।

দ্বৈত স্বত্বা

প্রতিটি লেনদেনে ২ টি পক্ষ থাকবে। একটি সুবিধা প্রদানকারী ও অন্যটি সুবিধা গ্রহণকারী। আধুনিক হিসাববিজ্ঞানে দুটি পক্ষ বলতে শুধুমাত্র ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বুঝায় না। পক্ষগুলো, হিসাব সমীকরণের উপাদান সম্পদ, দায়, মালিকানা স্বত্ব, আয় ও ব্যয় হতে পারে।

যেমনঃ বিজ্ঞাপন বাবদ ২০০০ টাকা নগদ প্রদান করা হল।
এখানে, ১ম পক্ষ: বিজ্ঞাপন (যা একটি ব্যয়)
২য় পক্ষ: নগদ (যা একটি সম্পদ)

ব্যবসায়িক লেনদেনের উৎস এবং দলিলপত্রাদি

প্রতিটি লেনদেনের সমর্থনে এক বা একাধিক প্রমাণপত্র থাকে। লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করতে এ সকল প্রমাণপত্র ব্যবহার হয়।

যেমন: যে কোন ব্যবসায়ী একইদিনে বহুবিদ লেনদেন সম্পনড়ব করেন। আর এ সমস্ত ঘটনাই হলো মূলত ব্যবসায়ের লেনদেনের উৎস।

সারা বছরের লেনদেনগুলো মুখস্ত রাখা সম্ভব নয়। কাজেই লেনদেনগুলোকে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনেই গুরুত্ব সহকারে হিসাবের বহিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। একজন হিসাবরক্ষক যখন এই লিপিবদ্ধকরণের কাজটি সমাধাণ করেন, তখনই লেনদেনের প্রযোজ্য দলিলও প্রস্তুত করেন।

দলিলপত্রগুলো হচ্ছে চালান , ভাউচার, ক্যাশ মেমো, বিল, ডেবিট নোট, ক্রেডিট নোট, ভ্যাট চালান ইত্যাদি।

লেনদেনের প্রকার

হিসাববিজ্ঞানে লেনদেনকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন: মুনাফা জাতীয় লেনদেন ও মূলদন জাতীয় লেনদেন।

১। মুনাফা জাতীয় লেনদেন

২। মূলধন জাতীয় লেনদেন


1 টি মন্তব্য: