রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

ডাল্টনের পরমানুবাদ ও তার সীমাবদ্ধতা

ডাল্টনের পারমাণবিক মতবাদে কিছু সীমাবদ্ধতা অবশ্যই আছে। যদিও সে যুগে কোন উন্নত পরীক্ষা ছাড়াই একমাত্র দর্শনের উপর ভিত্তি করে পরমাণু এবং এর অস্তিত্ব নিয়ে তত্ত্ব দেয়াটাই ছিল যুগান্তকারী। পরমাণুর সমন্বয়ে যৌগের গঠন এমনকি সেগুলোকে লিখে প্রকাশ করার জন্য পদ্ধতির সূচনা ছিল মাইলফলক। আধুনিক রসায়নের সূচনালগ্নে ডাল্টনের অবদান ছিল ব্যাপক। রসায়নের ইতিহাসে তিনি  প্রাতঃস্মরণীয়। তিনি আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিষয়ক গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের মধ্যে একজন অগ্রপথিক। বিজ্ঞানপ্রেমী এই মানুষটি আমৃত্যু ছিলেন  অবিবাহিত।

ডাল্টনের পরমানু মতবাদ

ডাল্টনের পরমানু মতবাদ বা পারমানবিক তত্ত্ব

বিজ্ঞানি ডাল্টন ১৮০৩ সালে পরমাণু সম্পরকে যে তত্ত্ব প্রদান করেন তাকে ডাল্টনের পরমাণুবাদ বলা হয়। এ মতবাদের স্বীকার্য সমূহ নিন্মরুপঃ

১)সকল পদার্থ অসংখ্য ক্ষুদ্র  ক্ষুদ্র কনা দ্বারা গঠিত। এ কনা গুলোর নাম  অ্যাটম বা পরমাণু। মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কনার নাম সরল পরমাণু এবং যৌগের ক্ষুদ্রতম কনার নাম যৌগিক পরমাণু ।

২)পরমানু অবিভাজ্য। এরা অবিভাজ্য থেকেই রাসাইনিক বিক্রিয়াই অংশ নেয়। 

৩)পরমাণু অবিনাশী। একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যাই না। 

৪) একই পদার্থের পরমাণুর ভর ও ধর্ম একই রকমের কিন্তু বিভিন্ন পদার্থের পরমাণু ভর ও ধর্ম বিভিন্ন। 

৫)শুধু পরমানুই রাসায়নিক বিক্রিয়াই অংশ নিতে পারে।

৬)দুই বা ততোধিক পদার্থের পরমাণু তাদের পুরনো সংখ্যার সরল অনুপাতে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে। যেমন H2O তে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পরমাণু সংখ্যার অনুপাত ২ঃ১ যা একটি সরল অনুপাত।

পরমাণুবাদের সীমাবদ্ধতা 

ডাল্টনের পরমানুবাদ পদার্থের গঠন সম্পর্কে সর্বপ্রথম কিছু বৈজ্ঞানিক ধারনা দিলেও এ মতবাদের বেশ কিছু ত্রুটি আছে। যেমন-

১) এই মতবাদে মৌলিক এবং যৌগিক উভয়ই প্রকার পদার্থের ক্ষুদ্রতম কনাকে পরমাণু বলা হয়।কিন্তু যৌগের ক্ষুদ্রতম কনা হল অনু যাকে ভাঙ্গলে পরমাণু পাওয়া যাই। সুতরাং ডাল্টনের পরমাণুবাদ অনু ও পরমানুর মধ্যে পার্থক্য দেখাতে বার্থ হয়। 

২) পরমাণু অবিভাজ্য, কথাটি ভুল। পরমানুকে ভাঙ্গা যায় এবং ভাঙ্গলে মুল কনিকা পাওয়া যায়। যেমনঃ ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন ।

৩) পরমাণু অবিনাশী, এ কথাটি ভুল। কারন কোন কোন পরমাণু আপনা আপনি বিভিন্ন কনা বিচ্ছুরন করে অন্য নতুন পরমানুতে রুপান্তরিত হয়। যেমনঃ()
এছাড়াও নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে ও এক পরমাণু থেকে অন্য  পরমাণু তৈরি করা যায়। 

৪) একই পদার্থের পরমাণুর ভর ও ধর্ম অভিন্ন, এ কথাটি ভুল।  যেমন আইসোটোপ গুলোর ভর একই নয়। যেমনঃ ()

৫)অভিন্ন মৌলের পারমাণুবিক ভর অভিন্ন, এ কথাও কারন আইসোবার গুলোর ভর একই। (--)

৬) পরমাণু সমূহ তাদের পূর্ণসংখ্যার সরল অনুপাতে যুক্ত হয়, এটাও ভুল। অনেক যৌগ আছে যেখানে পরমাণু সম্মুহ সরল অনুপাতে যুক্ত হয় না। যেমন ঃ (--)

এতসব ভুল থাকার সত্ত্বেও ডাল্টনের পরমাণুবাদ ছাড়া রসায়নের প্রথমিক পাঠ বুঝা যাই না । তাই ডাল্টনকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন