প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে ও জিপিএ ৪

Published by Abdul Awal Ripon on

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং সমমানের পরীক্ষায় এখন থেকে আর জিপিএ ৫ থাকবে না। এ পরীক্ষায়ও এখন থেকে জিপিএ ৪-এর মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে। তবে গ্রেড বিন্যাস কিভাবে হবে এ সিদ্ধান্তের জন্য এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে জিপিএ-৪ সূচকে গ্রেড বিন্যাসের উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন জানিয়েছেন, “প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বর্তমানে যে গ্রেড বিন্যাস রয়েছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রেড বিন্যাসের সঙ্গে মিল রেখেই করা হয়েছে। আমরা শুনেছি, তাঁরা গ্রেড বিন্যাস নিয়ে কাজ করছেন।যদি তাঁরা এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেন, আমরাও কমিটি গঠন করে আমাদের গ্রেড বিন্যাসও পরিবর্তন করব। কারণ একই শিক্ষার্থী পিইসিতে এক ধরনের গ্রেড আবার জেএসসিতে আরেক ধরনের গ্রেড পেতে পারে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রেডবিন্যাসের সঙ্গে মিল রেখেই পিইসির গ্রেড বিন্যাস হবে।”


জিপিএ ৪-এর মধ্যে এই গ্রেড বিন্যাস অনেকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই করা হয়েছে। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাস নম্বর ৪০ হলেও পাবলিক পরীক্ষায় রাখা হয়েছে ৩৩ নম্বর। যদিও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৮০ থেকে ১০০-এর মধ্যে প্রাপ্ত নম্বরকে দেয়া হয় জিপিএ-৪। কিন্তু জেএসসি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় একে ভেঙে দুটি গ্রেড করা হচ্ছে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পরীক্ষায় অনেকেই ৯০-এর ওপরে নম্বর পায়। এখন যারা ৮০ পাবে আর যারা ৯০ পাবে, সবাই যদি একই গ্রেড পায়, তাহলে মূল্যায়নটা সঠিক হয় না।

প্রস্তাবিত একটি পদ্ধতিতে ৯০ থেকে ১০০-এর মধ্যে নম্বরকে ‘এক্সিলেন্ট’ লেটার গ্রেড হিসেবে বলা হয়েছে, যার গ্রেড পয়েন্ট হবে ‘জিপিএ-৪’। আর ৮০ থেকে ৮৯ নম্বরকে ধরা হয়েছে ‘এ প্লাস’ গ্রেডে, যার গ্রেড পয়েন্ট হবে ‘জিপিএ-৩.৮৫’।

এরপর মূলত ৫ নম্বরের ভিত্তিতে লেটার গ্রেড পরিবর্তন করা হয়েছে। এখানে,

৭৫ থেকে ৭৯ নম্বর পেলে লেটার গ্রেড ‘এ’ এবং গ্রেড পয়েন্ট জিপিএ-৩.৭৫;

৭০ থেকে ৭৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘এ মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-৩.৫০;

৬৫ থেকে ৬৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘বি প্লাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-৩.২৫;

৬০ থেকে ৬৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘বি’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-৩.০০;

৫৫ থেকে ৫৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘বি মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২.৭৫;

৫০ থেকে ৫৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘সি প্লাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২.৫০;

৪৫ থেকে ৪৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ডি’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২.২৫;

৪০ থেকে ৪৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ডি মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-২;

৩৫ থেকে ৩৯ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ই’ এবং গ্রেড পয়েন্ট-১.৭৫;

৩৩ থেকে ৩৪ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘ই মাইনাস’ এবং গ্রেড পয়েন্ট ধরা হয়েছে-১.৫০।

আর শূন্য থেকে ৩২ নম্বরের লেটার গ্রেড ‘এফ’, যা ফেল হিসেবে ধরা হয়েছে।


আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, “আমরা চার-পাঁচটি পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে মিল রাখার পাশাপাশি গ্রেড বিন্যাস যাতে লজিক্যাল হয় সে বিষয়টিও খেয়াল রাখছি। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ অথবা আগামী সপ্তাহে আমাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেব। আগামী জেএসসি পরীক্ষা থেকেই আমরা নতুন গ্রেড বিন্যাসে ফল প্রকাশ করতে চাই।”

(সূত্রঃ দৈণিক শিক্ষা)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *