সিভির যে সাধারণ ভুলগুলো আমরা সবাই করছি

0
397
সিভির ভুল
Advertisement

আজ আমি ১০টি সিভির ভুল সম্পর্কে লিখতে যাচ্ছি যা আপনি নিজের সিভি লেখার সময় হয়তো করছেন। আপনি যদি সত্যিই কোনও চাকরি চান, এই ভুলগুলো আপনাকে এখনি সংশোধন করতে হবে।

প্রায় দেখা যায়, আমরা কোনও বড় ভাইয়ের পূর্বের লেখা সিভি এডিট করে আমাদের সিভি বানাই।

আমরা কোনও কম্পিউটার কম্পোজের দোকানে যাই এবং তাদেরকে আমাদের জন্য সিভি লিখতে বলি। আপনি কীভাবে মনে করেন যে এই ধরনের জীবন বৃত্তান্ত আপনাকে একটি ভাল চাকরী পেতে সাহায্য করবে।

Advertisement

আসুন দেখে নিই কি ভুল আপনি করছেন।

Common CV Mistakes You Must Avoid

লেখার ভুল

নিজের সিভি অবশ্যই নিজে লিখবেন। বড়ভাই বা অন্য কারো সিভি এডিট করে সেখানে, নিজের নাম আর বিস্তারিত বসিয়ে সিভি বানানো সর্বপ্রথম ভুল।

মাঝে মধ্যে হয়তো দেখবেন আপনার নাম ঠিক আছে, কিছু ইনফরমেশন হয়তো বড়ভাইয়েরটা রয়ে গেছে।

সিভির সবখানে, ফন্ট সাইজ ও ফন্ট স্টাইল একই রাখবেন। সিভির জন্য অবশ্যই বহুল ব্যবহৃত ও পরিচ্ছন্ন ফন্ট ব্যবহার করবেন।

সিভি অবশ্যই ইংরেজি হতে হবে। কোনভাবেই গ্রামারের ভুল, বানান ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কাউকে দিয়ে গ্রামার ও বানান ভুল আছে কিনা চেক করিয়ে নিবেন।

পৃষ্ঠা সংখ্যা

জীবন বৃত্তান্ত সাহিত্য চর্চার জায়গা নয় যে এখানে সাজিয়ে গুছিয়ে অনেক কিছু লিখবেন। শুধু মাত্র যা প্রয়োজন, তাই সংক্ষেপে লিখবেন।

অপ্রয়োজনীয় কোন তথ্য, বাবার বাড়ি, শশুর বাড়ি, আজগুবি শখ বা ইচ্ছা যেটা আপনার পেশার সাথে বা যে জবের জন্য আবেদন করছেন তার সাথে যায়না, এমন কোন তথ্য বা অভিজ্ঞতা লেখার প্রয়োজন নেই।

যদি আপনি ফ্রেসার বা ৫/৭ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হন, আপনার সিভি ২ পাতা হতে পারে। এর চেয়ে বেশি যেমন, ১০-১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে আপনি আরো একটি পৃষ্ঠা বাড়াতে পারেন।

তথ্যের ধারাবাহিকতা

আপনার সিভিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো শুরুতে থাকবে এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো পর পর লিখবেন।

মনে করুন, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, বাবার নাম, এসব আপনার কাজের জন্য বা চাকরী দাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই এমন তথ্য সব শেষে আসবে।

একজন চাকরীদাতার প্রয়োজন আপনার সাথে যোগাযোগ করার ঠিকানা/মাধ্যম, আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা। তাই এগুলো সিভির শুরুতেই ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করুন।

যখন আপনি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছেন, সর্বশেষ ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতা উপরে লিখুন। ধরুন, আপনি এমবিএ করেছেন। সবার আগে, আপনার এমবিএ, তারপর অনার্স, তারপর এইচএসসি, এসএসসি লিখুন।

ছবি যুক্ত করা

অনেকেই সিভিতে ছবি সহ প্রিন্ট করেন। সেটার কোয়ালিটি খুব ভাল হয় না। ছবি আপনার সিভির উপরের অংশে স্ট্যাপল করে দিতে পারেন। কখনই সিভি ও ছবি আলাদাভাবে দিবেন না। কেউ আপনার ছবি সিভির সাথে লাগানোর জন্য বসে নেই।

স্কুল কলেজ বা ভার্সিটিতে পড়াকালীন ছবি দিবেন না। অবশ্য সম্প্রতি তোলা ছবি দিবেন। প্রতি বছর ছবি পরিবর্তন করা আমার মতে উত্তম।

ফেইসবুক প্রোফাইলের ছবি, সেলফি ছবি, মুখ বাঁকানো মত এসব ছবি সিভির জন্য নয়। সুন্দর ভাবে ফরমাল শার্ট, টাই পড়া, হাসিমুখের ছবি দিবেন। ছবির ব্যকগ্রাউন্ড রিমুভ করে, সাদা বা হালকা কোন কালার দিতে পারেন।

ছবির সাইজ অবশ্যই পাসপোর্ট সাইজ হবে এবং রেজুলেশন ৩০০ পিক্সেল করে ভাল রেজুলেশনের ছবি হতে হবে।

যোগাযোগের তথ্য

সিভিতে আপনার নামের পরেই যোগাযোগ করার তথ্য লিখবেন। শুধুমাত্র আপনার সচল ফোন নম্বর, ইমেইল, বর্তমান ঠিকানা, সোশ্যাল প্রোফাইল (ফেইসবুক, লিংকডইন, টুইটার ও স্কাইপি) আইডি দিবেন। স্থায়ী ঠিকানা, শ্বশুর বাড়ির ঠিকানা লেখার কোন দরকার নেই।

ফোন নম্বর লিখার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার দেশের কান্ট্রি কোড (+880) লিখতে ভুলবেন না। যদি আপনার সিভি দুবাই পাঠান, সেখান থেকে আপনাকে কিভাবে ফোন করবে?

ইমেইল এড্রেসটি আপনার নাম ও কোন সংখ্যা দিয়ে তৈরি করুন। [email protected], or [email protected] এমন ধরণের কোন ইমেইল দিবেন না।

অপ্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা

আমরা প্রায় একই সিভি বিভিন্ন ধরনের চাকরীর জন্য ব্যবহার করি। আপনি একটু চিন্তা করে দেখুনতো। আপনি Accounts ডিপাটমেন্টের চাকরীর জন্য, Sales এর বেশি অভিজ্ঞতা দেখালে কি হবে?

এক্ষেত্রে আপনি Accounts এর জন্য, সংশ্লিষ্ট ফিল্ডের অভিজ্ঞতা দেখান। অন্যগুলো না দেখালেও চলবে। আপনি যে পদের জন্য আবেদন করছেন, তার সাথে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও ট্রেইনিং থাকলে উল্লেখ করুন।

আপনি যদি একদমই নতুন হন, কোন অভিজ্ঞতা না থাকে, অবশ্যই Co-curricular Activities গুলো লিখুন।

অপ্রয়োজনীয় তথ্য

সিভিতে কখনো, আপনার নির্বুদ্ধিতা প্রকাশ পায় এমন কিছু করবেন না। অপ্রয়োজনীয় কোন তথ্য লিখে অযথা বায়োডাটা বড় করার দরকার নেই।

যেমন, আপনি আপনার ছবি যুক্ত সিভি আবার লিখছেন Sex: Female । কেন, আপনার ছবি দেখেইতো বুঝা যাচ্ছে তা।

আবার আমরা কেউ কেউ, কিছু উদ্ভট শখের কথাও উল্লেখ করি। মাছ ধরা, নৌকা চালানো, বেড়াতে যাওয়া, ফুচকা খাওয়া। আপনার উদ্ভট শখ আপনার ভাল সিভিটাকেই নষ্ট করে দিবে। তাই, এগুলো একটু চিন্তা করুন।

আপনার বর্তমান বা প্রত্যাশিত বেতনের কথা বায়োডাটাতে লিখবেন না।

অতিরিক্ত সাজ-সজ্জা

সিভি অবশ্যই সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দরভাবে লিখবেন। তাই বলে, বিভিন্ন রংয়ের হেডিং, ফন্ট স্টাইল আর গ্রাফিক ডিজাইন দিয়ে অতিরিক্ত ডেকোরেশন করা উচিত না।

কোন Skill (দক্ষতা) দেখানো জন্য, ছক বা গ্রাফ করে দেখানো দরকার নেই। ‍Sentence আকারে লিখে দিতে পারেন।

সোশ্যাল প্রোফাইল না থাকা

এখন একজন সম্পর্কে খুব ভালভাবে জানা যায় তার Facebook Profile দেখেই। সোশ্যাল মিডিয়াগুলো যোগাযোগেরও একটি ভাল মাধ্যম। তাই, অন্তত আপনার Facebook ও Linkedin Profile লিংকটি Contact details এ লিখুন। পারলে, ‍Skype আইডিটা ও দিন।

যদি, আপনার Linkedin, Twitter, Skype, Whatsapp, Viber এসব একাউন্ট না থাকে, আজকেই করে ফেলুন।

ভুল শব্দের ব্যবহার

সিভিতে আমরা কিছু কমন Phrases ব্যবহার করি। যেমন, “Looking for a position, Looking for a good organization, Need, Seeking” এগুলো আপনার দুর্বলতাই প্রকাশ করে।

বায়োডাটায়, দেখাবেন আপনি কেন ওই চাকরীর জন্য সেরা। কেন নিয়োগদাতা আপনাকেই বেছে নিবে। আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, ইচ্ছা যদি আপনি সিভিতে ফুটিয়ে তুলতে না পারেন, এটা অনেক বড় ব্যর্থতা।

তাই, আপনার সম্পর্কে এমন কিছু বলুন যাতে আপনাকেই নিয়োগদাতা বাছাই করে। দরকার হলে, গুগলে সার্চ দিয়ে সিভির কিছু স্ট্রং Phrases বা Sentences খুজে নিতে পারেন।

যাইহোক, সিভির স্টেটমেন্ট গুলো  অবশ্যই SMART হতে হবে। SMART মানে, S= Specific (সুনির্দিষ্ট) M=Measurable (পরিমাপযোগ্য) A=Achievable (সাধনযোগ্য) R= Realistic (বাস্তব) T=Time Bounded (নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে)।

সিভির শেষে, অবশ্যই আপনার নাম ও সিগনেচার দিন।

সর্বোপরি যা বলতে চাই, নিয়োগদাতা প্রথমে আপনাকে দেখবেনা, দেখবে আপনার সিভি। সিভির কারণেই বেশিরভাগ চাকরী প্রার্থী বাদ পড়ে যায়। তাই, সিভি এমন হওয়া উচিত যা আপনাকেই প্রকাশ করবে।

যদি সত্যিই চাকরি পেতে চান, এখনি আপনার সিভি সংশোধন করুন এবং এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন।

Advertisement

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে