BDclass

সর্বশেষ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ 

১৪ জুন ২০১৮ সালে শুরু হবে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল।রাশিয়া বিশ্বকাপে মোট ৩২টি দল নির্ধারণ হয়েছিল পূর্বেই। ৩২টি দলকে ৮টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রুপে রয়েছে ৪টি করে দল। এখন শুধুই অপেক্ষা মাঠের লড়াই শুরুর জন্য। ১৪ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ক্রীড়া প্রদর্শনী ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। ইউরোপের এই দেশটির ১১ শহরের ১২টি স্টেডিয়ামে হবে। সৌদি আরবের বিপক্ষে স্বাগতিকদের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে একুশতম বিশ্বকাপের। চলবে এক মাসব্যাপী। দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী সূচিতে কার খেলা কখন:
বিশ্বকাপ-ফুটবল-২০১৮-সময়সূচি

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপগুলো হলো

গ্রুপ ‘এ’ : রাশিয়া, সৌদি আরব, মিশর, উরুগুয়ে
গ্রুপ ‘বি’ : পর্তুগাল, স্পেন, মরোক্কো, ইরান
গ্রুপ ‘সি’ : ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ডেনমার্ক
গ্রুপ ‘ডি’ : আর্জেন্টিনা, আইসল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, নাইজেরিয়া
গ্রুপ ‘ই’ : ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা, সার্বিয়া
গ্রুপ ‘এফ’ : জার্মানি, মেক্সিকো, সুইডেন, কোরিয়া রিপাবলিক (দক্ষিণ কোরিয়া)
গ্রুপ ‘জি’ : বেলজিয়াম, পানামা, তিউনিশিয়া, ইংল্যান্ড
গ্রুপ ‘এইচ’ : পোল্যান্ড, সেনেগাল, কলম্বিয়া, জাপান

দেখে নিন বাংলাদেশ সময় বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সালের ম্যাচগুলোর সময় সূচি: 

১৪ জুন (রাত ৯টা): রাশিয়া-সৌদি আরব
১৫ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): মিশর-উরুগুয়ে
১৫ জুন (রাত ৯টা): মরক্কো-ইরান
১৫ জুন (রাত ১২টা): পর্তুগাল-স্পেন
১৬ জুন (বিকেল ৪টা): ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া
১৬ জুন (সন্ধ্যা ৭টা): আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ড
১৬ জুন (রাত ১০টা): পেরু-ডেনমার্ক
১৬ জুন (রাত ১টা): ক্রোয়েশিয়া-নাইজেরিয়া
১৭ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): কোস্টারিকা-সার্বিয়া
১৭ জুন (রাত ৯টা): জার্মানি-মেক্সিকো
১৭ জুন (রাত ১২টা): ব্রাজিল-সুইজারল্যান্ড
১৮ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): সুইডেন-দক্ষিণ কোরিয়া
১৮ জুন (রাত ৯টা): বেলজিয়াম-পানামা
১৮ জুন (রাত ১২টা): তিউনিসিয়া-ইংল্যান্ড
১৯ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): পোল্যান্ড-সেনেগাল
১৯ জুন (রাত ৯টা): কলম্বিয়া-জাপান
১৯ জুন (রাত ১২টা): রাশিয়া-মিশর
২০ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): পর্তুগাল-মরক্কো
২০ জুন (রাত ৯টা): উরুগুয়ে-সৌদি আরব
২০ জুন (রাত ১২টা): ইরান-স্পেন
২১ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): ফ্রান্স-পেরু
২১ জুন (রাত ৯টা): ডেনমার্ক-অস্ট্রেলিয়া
২১ জুন (রাত ১২টা): আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া
২২ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): ব্রাজিল-কোস্টারিকা
২২ জুন (রাত ৯টা): নাইজেরিয়া-আইসল্যান্ড
২২ জুন (রাত ১২টা): সার্বিয়া-সুইজারল্যান্ড
২৩ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): বেলজিয়াম-তিউনিসিয়া
২৩ জুন (রাত ৯টা): জার্মানি-সুইডেন
২৩ জুন (রাত ১২টা): দক্ষিণ কোরিয়া-মেক্সিকো
২৪ জুন (সন্ধ্যা ৬টা): ইংল্যান্ড-পানামা
২৪ জুন (রাত ৯টা): জাপান-সেনেগাল
২৪ জুন (রাত ১২টা): পোল্যান্ড-কলম্বিয়া
২৫ জুন (রাত ৮টা): উরুগুয়ে-রাশিয়া
২৫ জুন (রাত ৮টা): সৌদি আরব- মিশর
২৫ জুন (রাত ১২টা): স্পেন-মরক্কো
২৫ জুন (রাত ১২টা): ইরান-পর্তুগাল
২৬ জুন (রাত ৮টা): ডেনমার্ক-ফ্রান্স
২৬ জুন (রাত ৮টা): অস্ট্রেলিয়া-পেরু
২৬ জুন (রাত ১২টা): নাইজেরিয়া-আর্জেন্টিনা
২৬ জুন (রাত ১২টা): আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া
২৭ জুন (রাত ৮টা): দক্ষিণ কোরিয়া-জার্মানি 
২৭ জুন (রাত ৮টা): মেক্সিকো-সুইডেন
২৭ জুন (রাত ১২টা): সার্বিয়া-ব্রাজিল
২৭ জুন (রাত ১২টা): সুইজারল্যান্ড-কোস্টারিকা
২৮ জুন (রাত ৮টা): জাপান-পোল্যান্ড
২৮ জুন (রাত ৮টা): সেনেগাল-কলম্বিয়া
২৮ জুন (রাত ১২টা): ইংল্যান্ড-বেলজিয়াম
২৮ জুন (রাত ১২টা): পানামা-তিউনিসিয়া

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ শেষ ১৬

৩০ জুন (রাত ৮টা): সি ১ – ডি ২ (ম্যাচ ৫০)
৩০ জুন (রাত ১২টা): এ ১ – বি ২ (ম্যাচ ৪৯)
১ জুলাই (রাত ৮টা): বি ১ – এ ২ (ম্যাচ ৫১)
১ জুলাই (রাত ১২টা): ডি ১ – সি ২ (ম্যাচ ৫২)
২ জুলাই (রাত ৮টা): ই ১ – এফ ২ (ম্যাচ ৫৩)
২ জুলাই (রাত ১২টা): জি ১ – এইচ ২ (ম্যাচ ৫৪)
৩ জুলাই (রাত ৮টা): এফ ১ – ই ২ (ম্যাচ ৫৫)
৩ জুলাই (রাত ১২টা): এইচ ১ – জি ২ (ম্যাচ ৫৬)

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ কোয়ার্টার ফাইনাল

৬ জুলাই (রাত ৮টা): ম্যাচ ৪৯ এর জয়ী – ম্যাচ ৫০ এর জয়ী (ম্যাচ ৫৭)
৬ জুলাই (রাত ১২টা): ম্যাচ ৫৩ এর জয়ী – ম্যাচ ৫৪ এর জয়ী (ম্যাচ ৫৮)
৭ জুলাই (রাত ৮টা): ম্যাচ ৫৫ এর জয়ী – ম্যাচ ৫৬ এর জয়ী (ম্যাচ ৬০)
৭ জুলাই (রাত ১২টা): ম্যাচ ৫১ এর জয়ী – ম্যাচ ৫২ এর জয়ী (ম্যাচ ৫৯)

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ সেমি ফাইনাল:

১০ জুলাই (রাত ১২টা): ম্যাচ ৫৭ এর জয়ী – ম্যাচ ৫৮ এর জয়ী (ম্যাচ ৬১)
১১ জুলাই (রাত ১২টা): ম্যাচ ৫৯ এর জয়ী – ম্যাচ ৬০ এর জয়ী (ম্যাচ ৬২)

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ তৃতীয় স্থান নির্ধারণী:

১৪ জুলাই (রাত ৮টা): ম্যাচ ৬১ এর পরাজিত – ম্যাচ ৬২ এর পরাজিত

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ ফাইনাল :

১৫ জুলাই (রাত ৯টা)

বর্তনি

এখানে ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ(I) প্রবাহিত হয়ে রোধ (R) এর মধ্য দিয়ে চলতে চলতে আবার ব্যাটারিতে ফেরত আসবে।এইযে বিদ্যুৎ প্রবাহের একটা সার্কেল এটাই হলো বর্তনি।

একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি বা ইলেকট্রনিক সার্কিটের উপাদানগুলি বিভিন্নভাবে সংযুক্ত করা যায়। এই সংযুক্ত করার সবচেয়ে সহজ দুটি উপায় হচ্ছে সিরিজ বা শ্রেণি বর্তনী এবং অপরটি সমান্তরাল বর্তনী।

বর্তনি-কি

শ্রেণি বর্তনি

যখন কোন বর্তনিতে তার উপাদান গুলো একই পথে যুক্ত থাকে অর্থাৎ একটির শেষ প্রান্তের সাথে অপরটির প্রথম প্রান্ত যুক্ত থাকে তখন তাকে শ্রেণি বর্তনী বলে এবং এক্ষেত্রে বর্তনীর সকল উপাদানের মধ্যে দিয়ে একই বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।

শ্রেণি বর্তনি
এই সার্কিটির দিকে আমরা লক্ষ করি। এখানে রোধ দেখা যাচ্ছে তিনটা। এখানে আমার তড়িৎ প্রবাহ কিন্তু কোথাও ভাগ হচ্ছে না। অর্থাৎ এখানে বর্তনিটির উপাদান গুলো সিরিজে যুক্ত থাকে।
যেমন ধর (R1)এ একটি লাইট লাগালাম (R2)তে একটি ফ্যান লাগালাম (R3)তে আবার একটি লাইট লাগালাম । এভাবে সবগুলো এক লাইনে থাকার কারণে তড়িৎ প্রবাহ কোথাও ভাগ হচ্ছে না।

সমান্তরাল বর্তনি

অপরদিকে যখন কোন বর্তনীতে সবগুলো রোধের প্রথম প্রান্ত একটিমাত্র সাধারণ বিন্দুতে এবং অপরপ্রান্ত অপর একটিমাত্র সাধারণ বিন্দুতে যুক্ত থাকে তখন সে বর্তনীকে বলা হয় সমান্তরাল বর্তনী।এখন দেখা যাক সমান্তরাল বর্তনি কেমন হবে।
সমান্তরাল-বর্তনি

 এই সার্কিটটির দিকে লক্ষ করি। এখানেও দেখা যাচ্ছে তিনটা রোধ আছে। বর্তনিতে বিদ্যুৎ(I) প্রবাহিত হয়ে একটা নির্দিষ্ট অংশে এসে তড়িৎ প্রবাহটা (I1)(I2)(I3)তিনটা অংশে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এবার অন্য অংশে এসে (I1)(I2)(I3) এ তিনটি অংশ মিলিত হয়ে (I) হয়ে ফেরত আসলো।
সুতরাং শ্রেনি বর্তনি এবং সমান্তরাল বর্তনি চেনার একটি সহজ পদ্ধতি এটাই যে যদি বর্তনিতে তড়িৎ ভাগ না হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে সেটা শ্রেনি বর্তনি আর বর্তনিতে তড়িৎ যদি ভাগ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে সেটা সমান্তরাল বর্তনি।

শ্রেণি বর্তনীর সুবিধা:

শ্রেণি-বর্তনি
শ্রেণি বর্তনি

শ্রেণি বর্তনিতে একটাই সুইচ দিতে পারবে। এ একটা সুইচ অফ করলে সব অফ হয়ে যাবে। আবার চালু করলে আবার সব চালু হয়ে যাবে। তার মানে এটাকে একটা দিয়েই নিয়ন্ত্রন করা যায়।

সমান্তরাল বর্তনী সুবিধা:

সমান্তরাল-বর্তনি
সমান্তরাল বর্তনি
ধর এখানে প্রথমে একটা লাইট দিলাম তারপর একটা ফ্যান দিলাম তারপর আবার একটা লাইট দিলাম। শুধুমাত্র তিনটার সাথে তিনটা সুইচ বসিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যাবে।

*পরিক্ষায় আসতে পারে:

অনেক সময় তোমাদের পরিক্ষায় প্রশ্ন আসে যে আমরা আমাদের বাসা বাড়িতে কোন বর্তনি ব্যবহার করতে পারি? আমরা সমান্তরাল বর্তনি ব্যবহার করবো নাকি শ্রেনি বর্তনি ব্যবহার করবো? এক্ষেত্রে আমাদের উত্তর হবে আমরা সমান্তরাল বর্তনি ব্যবহার করবো। কারন ধরো তুমি যে ঘরে থাকো সে ঘরে একটা সুইচ বেড রুমে আছে, একটা সুইচ বাথরুমে আছে, একটা সুইচ ডাইনিং এ আছে। এভাবে আলাদা আলাদা ভাবে যেখানে যেভাবে প্রয়োজন আমি সেখানে সেভাবে সেট করেছি। এখন আমি বেড রুমে আছি অন্য লাইট গুলো বন্ধ করতে চাই। বা আমার রুমে লাইট জ্বলছে আমি চাচ্ছি ফেনটা অফ করে দিতে। আবার চাচ্ছি লাইট টা বন্ধ থাক শুধূ ফ্যান টা চলুক। এতে ইচ্ছা মত আমি সুবিধা পাবো সমান্তরাল বর্তনিতে।
এজন্যই শ্রেণি অপেক্ষা সমান্তরাল বর্তনি বাসা বাড়িতে বেশি উপকার।

বর্তনিতে রোধের ব্যবহার:

এখন এইযে বর্তনিতে (R1) (R2) (R3)রোধ গুলো দেখা যাচ্ছে এই রোধ গুলোর কাজ কি? এগুলো কেন ব্যবহার হয়?
কারন আমরা যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি তাতো আসে মেন লাইন থেকে। এ মেন লাইনের বিদ্যুতে অনেক ভোল্টের বিদ্যুৎ থাকে। এখন আমাদের যে লাইন আছে যে সুইচ আছে সেগুলোর এতো পরিমান বিদ্যুৎ সহ্য করার ক্ষমতা রাখেনা। এখন এতো পরিমান বিদ্যুৎকে বাধা প্রাপ্ত করার জন্যই রোধ ব্যবহার হয়। যাতে আমাদের প্রয়োজনিয় বিদ্যুতটা আমরা পাই। যদি রোধ না থাকে তো দেখা যাবে অতিরিক্ত বিদ্যুতের কারণে সার্কিট পুরে যাবে।

শ্রেণি ও সমান্তরাল এক সাথে:

একটি বর্তনিতে শ্রেণি ও সমান্তরাল উভয়টি পাওয়া যেতে পারে। নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-

শ্রেণি-ও-সমান্তরাল-বর্তনি
শ্রেণি বর্তনি ও সমান্তরাল বর্তনি এক সাথে

এখানে সার্কিটটিতে বিদ্যুৎ প্রবাহ (I) (R1) এবং (R2)পর্যন্ত প্রবাহিত হয় কোনো রকম ভাগ হওয়া ছাড়াই। তারপর দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ প্রবাহ (I) ভাগ হয়ে (I1)(I2) হয়ে (R3) এবং (R4) এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর (I1)(I2) এ দুটি অংশ মিলিত হয়ে (I) হয়ে ফেরত আসলো।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যেহেতু (R1) এবং (R2) তে কোনো রকম বিদ্যুৎ ভাগ হচ্ছে না তাই বলা যায় এটি শ্রেণি বর্তনি আর (R3) এবং (R4) অংশে যেহেতু বিদ্যুৎ ভাগ হচ্ছে তাই এটি সমান্তরাল বর্তনি।

তুল্যরোধ:


তুল্যরোধ বলতে যা বোঝায় তা হলঃ একটি বর্তনীতে যতগুলো রোধক আছে, ততগুলো রোধকের পরিবর্তে একটা রোধক ব্যবহার করতে হবে কিন্তু বিভব পার্থক্যের কোন পরিবর্তন ঘটানো যাবে না এবং ওই রোধকগুলো তড়িৎ প্রবাহকে যতটুকু বাধা প্রদান করত; তার পরিবর্তে একটি রোধক ব্যবহার করলে ঠিক সেই পরিমাণ বাধা দান করবে; তাহলেই নতুন একমাত্র রোধকটি হবে ওইসব রোধক গুলোর তুল্যরোধ।

রোধ

এই বর্তনিটিতে ৩টি রোধ আছে। এখন আমার ইচ্ছা আমি ৩টি রোধ ব্যবহার এর পরিবর্তে শুধু একটি রোধ ব্যবহার করবো। এমন একটি রোধ ব্যবহার করবো যেটা একাই তিনটার কাজ করবে। তাহলে বিভিন্ন পরিমান রোধের পরিবর্তে আমরা যদি একটা রোধ দিয়ে সেই রোধ গুলোর কাজ করতে পারি তাকে বলা হয় তুল্যরোধ।

শ্রেণি বর্তনির তুল্যরোধ:

Rs=R1+R2+R3......+Rn এখানে n সংখ্যাক রোধ শুধু যোগ করে দিলেই হবে।

বর্তনি

যেমন ধরো এই শ্রেণি বর্তনিতে তিনটা রোধ। সুতরাং
Rs=R1+R2+R3
বা Rs=5+5+10
বা Rs=20 Ω
এখন আমার ইচ্ছা এই তিনটি রোধের পরিবর্তে একটি রোধ ব্যবহার করবো। এবং সেটার মান কত হবে?
20 মানের রোধ।


তাহলে আমার এই বর্তনি একই রকম কাজ করবে। এটাকেই বলা হয় তুল্যরোধ। এই ছিলো শ্রেণি বর্তনির ক্ষেত্রে।
সমান্তরাল বর্তনির তুল্যরোধ: সূত্র 1/Rp=1/R1+1/R2+1/R3......+1/Rn এখন এখানে আমাদের দরকার Rp এর মান। 1/Rp এর মান নয়।

বর্তনি

ধরো এই সমান্তরাল বর্তনিতে দুইটা রোধ আছে। সুতরাং
1/Rp=1/R1+1/R2
বা 1/Rp=1/5+1/10
বা 1/Rp=(2+1)/10
বা 1/Rp=3/10
এখন এখানে আমাদের দরকার Rp এর মান। 1/Rp এর মান নয়। সুতরাং 1/Rp এর মান উল্টে দেই। তাহলে কি হয়? Rp=10/3
 Rp=3.33
1/Rp সূত্রে থাকলেও এটা কিন্তু আমাদের রোধ না। আমাদের রোধ হলো Rp
বর্তনি
সুতরাং আমরা দুইটা রোধের পরিবর্তে একটা 3.33 রোধ ব্যবহার করবো। তাহলে আমার এই বর্তনি একই রকম কাজ করবো।

এটাই হচ্ছে এ অধ্যায়ের বেসিক ধারনা। নিয়মিত এমন কোর্স পেতে এখনি নিচের বক্সে ইমেইল এড্রেস লিখে, সাইন আপ করুন।

প্রত্যেক মানুষই সম্ভাবনাময় । তুমি যদি পরিশ্রম করো, তুমি যদি যোগ্যতা প্রমানের চেষ্টা করো তাহলে তুমি তোমার জীবনে কখনো না কখনো সফলতা অবশ্যই পাবে।

সফলতার গল্প

তোমাদের চার পাশেই এরকম অসংখ্য উদাহরন আছে। এই রকমই একজন পরিশ্রমি মানুষ স্যান্ডারস। সেই হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে তার মহান কীর্তি, ফ্রাইড চিকেন রেসিপি। যদিও মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া এবং খাওয়ার মান বিবেচনায় সম্প্রতি কে.এফ.সি (KFC) তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশে।

সফলতার-গল্প


যাই হোক, সেই সংগ্রামী, উদ্যমী এবং সফল উদ্যোক্তা হারল্যান্ড স্যান্ডারস। ৬৫ বছর বয়সে তার জীবনের মোড় পাল্টে যায় এক অদ্ভুত নাটকীয় ঘটনায়। জন্ম আমেরিকার ‘ইন্ডিয়ানা’ স্টেটে ১৮৯০ সালে। আর বাড়িটা ছিল ইন্ডিয়ানার হেনরিভ্যালি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। মাত্র ছয় বছর বয়সে পিতাকে হারান তিনি। তারপরই সংসারের সকল চাপ নিজের কাঁধের উপর উঠে আসে। পরিবার চালাতে তার মা বাইরে কাজ করতে যেতেন, মায়ের অনুপস্থিতিতে স্যান্ডারসকে দেখে শুনে রাখতে হত তার ছোট ভাই ও বোনটিকে।

মাত্র সাত বছর বয়সেই বেশ ভাল রান্না শিখে গিয়েছিলেন তিনি। কারণ ছোট ভাই-বোনের খাওয়ার দায়িত্ব তো ছিল তার কাঁধেই। স্যান্ডারসের যখন ১২ বছর বয়স তখন তার মা নতুন বিয়ে করলে সৎ বাবার আশ্রয়ে খুব বেশিদিন কাটাতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে একটা ফার্ম হাউজে কাজ নিয়ে চলে আসেন অনেকটা দূরে। এত চাপের পর পড়াশোনাও খুব বেশিদিন চালিয়ে যেতে পারলেন না। এর পর থেকে শুরু হয় তার প্রতিকূল পথচলা। অনেক চড়াই উৎরাই পাড় করে চলে তার জীবন। কখনো ট্রেনের ফায়ারম্যান, কখনো ক্ষেতমজুর, কখনো বা বিমা কোম্পানির সেলসম্যান, গাড়ির টায়ার বিক্রেতা, ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী এবং সর্বশেষ একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী।

১৯৩০ সালের দিকে স্যান্ডারস কেন্টাকিতে একটি পেট্রোল স্টেশনের পাশে নিজেই রান্না করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য বিক্রয় করতে লাগলেন। তিনি সেখানে বিভিন্ন সাউথ আমেরিকান খাওয়ার পরিবেশন করতেন। ধীরে ধীরে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে তার খাবারের খ্যাতি। ধীরে ধীরে জায়গাটিকে পুরো রেস্টুরেন্টে রূপ দেন।

তার প্রথম সফলতা আসে যখন ১৯৩৯ সালের দিকে সকলের সামনে তার সিগনেচার রান্না উপস্থাপন করেন নতুনভাবে। তিনি নিজেই একটি এমন প্রেসার কুকার তৈরি করে নেন যা ছিল প্রচলিতগুলোর চেয়ে আলাদা। কিন্তু এই প্রেসার কুকারে ফ্রাইড চিকেনের টেক্সচার বা মচমচে ভাবটা খুব ভালভাবেই আসে।

এর পরের দশ বছর স্যান্ডারসের বেশ ভালভাবেই কেটেছিলো। এরপর ১৯৫০ সালে কেন্টাকির গভর্ণর তাকে ‘কর্নেল’ উপাধি দেন যা একটি স্টেটের পক্ষে ছিল সর্বোচ্চ সম্মান। এরপর সেন্ডারস নিজের আইকনিক লুকের জন্য সাদা স্যুট এবং কেন্টাকি কর্নেল টাই পরিহিত হয়ে সবার সামনে ধরা দেন। আর এই পোশাকই তাকে আধুনিক যুব সমাজে অন্যতম আইকন হিসেবে জাহির করে।

১৯৫২ সালের দিকে স্যান্ডারস নতুন করে ভাবতে শুরু করেন তার এই ব্যবসা নিয়ে। তার এক ব্যবসায়িক বন্ধু পিট হারমেনের সাথে চুক্তি করেন যে তার তৈরি “Kentucky Fried Chicken” এর প্রতিটি মূল্যের সাথে রয়্যালটি হিসেবে চার সেন্ট করে পাবেন। এই চুক্তির ব্যাপক সাফল্যের পর সেন্ডারস আরও কিছু রেস্টুরেন্টের সাথে অনুরূপ চুক্তি করেন। সবকিছু বেশ ভালভাবেই চলছিল।

কিন্তু হঠাৎই তার উপর একটি বিপদ নেমে আসে। সরকারি জায়গা অধিগ্রহণের বেড়াজালে পড়ে বিশাল ক্ষতিতে বিক্রয় করতে বাধ্য হন তার রেস্টুরেন্ট। হাতে পড়ে থাকে শুধুমাত্র ১০৫ ডলারের সিকিউরিটি চেকের অর্থ।

কিন্তু হার মেনে নেয়ার পাত্র নন স্যান্ডারস। তার চার বছর আগে ফেলে আসা ব্যবসায়িক চিন্তাকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য বদ্ধ পরিকর হলেন। তার গাড়ি ভর্তি করে নিলেন প্রেসার কুকার, মুরগি, ময়দা, তার নিজের তৈরি রেসিপির অন্যান্য উপকরণ।এরপর তিনি ঘুরতে লাগলেন রেস্টুরেন্ট থেকে রেস্টুরেন্ট। উদ্দেশ্য একটাই, যদি ভাল লেগে যায় তার রেসিপি, তাহলেই চুক্তিবদ্ধ হবেন।কাজটা শুনতে যতটাই সহজ মনে হোক না কেন, বস্তুত ছিল অনেক কষ্টসাধ্য। তার যেতে হয়েছিল অনেক রেস্টুরেন্টের দ্বারে দ্বারে। কেউ শুনেই হাসি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল, কেউ বলেছিল পাগল, আবার কেউ রেসিপি পছন্দ করেও কোনো প্রকার চুক্তি করতে জানিয়েছিল অস্বীকৃতি।

কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। নিজের ইচ্ছা পূরণে ছিলেন বদ্ধ পরিকর। তার চেষ্টা এক সময় সফলতায় রূপ নিল। ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত তার অনেক চেষ্টায় প্রায় ৬০০টি রেস্টুরেন্টের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পেরেছিলেন। সেই বছরই অক্টোবর মাসের দিকে ‘জেক সি মেসি’ নামে একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে আবেদন পান তার রেসিপির রয়্যালিটির অধিকার কিনে নেয়ার। শুরুর দিকে তিনি কোনো আগ্রহই দেখাননি। কিন্তু পরবর্তীতে চিন্তা করে দেখলেন, তার এই রেসিপি শুধুমাত্র পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে না রেখে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দিলে তার যশ আর খ্যাতি হয়ে থাকবে চিরন্তন।

১৯৬৫ সালের জানুয়ারি মাসে তার জগত ভোলানো রেসিপির অধিকারস্বত্ব দুই মিলিয়ন ডলারে বিক্রয় করেন তিনি। Kentucky Fried Chicken চুক্তিপত্র অনুযায়ী কোম্পানি হিসেবে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট খুলবে পুরো বিশ্বে এবং কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না রেসিপির ব্যাপারে। স্যান্ডারস সারা জীবনের বেতন হিসেবে ৪০,০০০ ডলার পাবেন, অধিকাংশ শেয়ারের মালিক হবেন এবং কোম্পানির প্রচারে অংশগ্রহণ করবেন কোম্পানির ব্র্যান্ড এম্বেসেডর হয়ে।

১৯৮০ সালের তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্যান্ডারস ছুটে বেড়িয়েছে মাইলের পর মাইল তার হাতে গড়া রেসিপির কদর আর মান দেখার জন্য। কখনো গুণাগুণের ব্যাপারে সমঝোতা করেন নি তিনি। সব সময় নিজের তৈরি রেসিপি নিয়ে মানুষের মনে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। তার চাওয়া যে সফলভাবে পাওয়াতে পরিণত হয়েছে তা তো সময়ই প্রমাণ করেছে।

ব্যাপারটা অনেকটা এমন হলো যে বুড়ো বয়সে ভিমরতি বলে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে আমাদের সমাজে।
অধিকাংশ লোকেরাই চিন্তা করে যে চাকরি শেষ মানে এখন চুপচাপ ঘরে বসে থাকা আর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা। কিন্তু এখানে হারল্যান্ড স্যান্ডারস ব্যাতিক্রমি কিছু করে দেখিয়েছেন। এই ছিলো হারল্যান্ড স্যান্ডারস এর সংগ্রামি জীবন।

কোনো এক মহাপুরুষ বলে ছিলেন “ব্যার্থতাই সফলতার চাবি কাঠি”। তাই মন থেকে কিছু চেয়ে সঠিকভাবে লেগে থাকলে সফলতা আসবেই।

যোগাযোগ ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget